দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পশ্চিম বীর নারায়ণ এলাকায় খয়রাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে রোববার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, নদীভাঙন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের এক বিভীষিকা। একবার নদীতে ঘরবাড়ি হারালে মানুষ নতুন করে ঘর তুলেও স্থায়ী নিরাপত্তা পায় না। ভাঙনের শিকার মানুষকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়। অথচ নদীভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থের সুফল নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে।
ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, জানুয়ারি-ডিসেম্বর থেকে এখানে বেড়িবাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কবে সেই কাজ হবে, আর কত বর্ষায় কত মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ প্রশ্ন এলাকার মানুষের।
নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ছোট ছোট শিশুরা ঠিকভাবে স্কুলে যেতে পারছে না। পানিতে ভিজে গেলে পোশাক পরিবর্তনের জন্য তাদের অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে রাখতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি এলাকার কবরস্থানও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একই দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানানোর পরও যদি কাজ না হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে গেলে তার দায় তাঁদের ওপর চাপানো যাবে না। এমন আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি ও ন্যায্যতা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, শুধু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করলেই হবে না, মানুষকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হবে, বাড়িঘর রক্ষা করতে হবে এবং নদীভাঙনের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে।
খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধের আন্দোলনে বাসদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন এ আন্দোলন চলবে, ততদিন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের পক্ষ থেকে তাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে থাকবেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ১০০ বছর ধরে খয়রাবাদ নদীর ভাঙনে এলাকার মানুষের বসতভিটা, পৈতৃক সম্পত্তি ও পূর্বপুরুষদের কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও ২০০টির বেশি পরিবার ও অন্তত এক হাজার মানুষ বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার নদীতীর জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ জন্য নদীতীরে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত ৭ জুন একই দাবিতে নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় তিন মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
কর্মসূচিতে দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদ হাওলাদার, সদস্যসচিব মো. রমজান আকন হৃদয়, যুগ্ম সদস্যসচিব মো. রুবেল হাওলাদারসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, খয়রাবাদ নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারাতে পারে। তাই বর্ষা ও ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এমএস/